ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ, শিল্প ও অর্থনীতি

717
brahmanbaria-natural-resources
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ, শিল্প ও অর্থনীতি

বাংলাদেশ এক সময়ে প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর একটি দেশ ছিল কিন্ত বর্তমানে নানা অব্যবস্থাপনা, দূর্নীতি ও বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সমস্যায় দিনদিন আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তারপরেও আমাদের গ্যাস, খনিজ সম্পদ, কয়লাসহ আরো নানা ধরণের প্রাকৃতিক সম্পদ এখনো ব্যাপক পরিমাণে মজুদ রয়েছে। তবে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মূলত বেশি পরিচিত তিতাস গ্যাসের জন্য। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বর্তমানে দেশের সিংহভাগ গ্যাসের যোগান দিয়ে থাকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে গ্যাস ছাড়াও আরো অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ ও শিল্প রয়েছে, সেগুলো নিয়ে নিচে বিস্তারিত লেখা রয়েছে-

তিতাস গ্যাসক্ষেত্র

বাংলাদেশের যে কয়টি বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে এর মাঝে তিতাস গ্যাসক্ষেত্র অন্যতম বৃহত্তম প্রধান একটি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত এই গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৬২ সালে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি আবিষ্কার করে এবং ১৯৬৮ সালে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। শুধু তাই নয়, তিতাস গ্যাস ফিল্ড দেশের এক-তৃতীয়াংশ গ্যাস সরবরাহ করে। প্রায় ৬৪ বর্গ কি.মি বিস্তৃত জায়গা নিয়ে এই গ্যাসক্ষেত্রটি গঠিত। তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের মোট অনুমিত মজুদ প্রায় ৪.১৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। যার মাঝে উত্তোলনযোগ্য মজুদ রয়েছে প্রায় ২.১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।

তিতাস গ্যাস ফিল্ড থেকে প্রতিদিন ৫শ ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্যাস গ্রীডে সরবরাহ করা হয়। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে তিতাস থেকে বিরামহীনভাবে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। পৃথিবীর আর কোথাও এমনভাবে টানা ৬০ বছর ধরে গ্যাস উত্তোলনের কোনো নজীর নেই বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।

সালদা নদী গ্যাসক্ষেত্র

সালদা গ্যাসক্ষেত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় অবস্থিত। বাংলাদেশের ১৯তম গ্যাসক্ষেত্র। এটি কসবা উপজেলা থেকে ১০ কি.মি দক্ষিণে বারেক ইউনিয়নে অবস্থিত। ১৯৯৬ সালে বাপেক্স গ্যাসক্ষেত্রটি খনন করে যার গভীরতা ২৫১২ মিটার। এখানে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে।

আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র

আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিঃ বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যুৎ কেন্দ্র। বর্তমানে এর মোট উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৫৬৮ মেগাওয়াট। বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎখাত উন্নয়ন ও সংস্কার কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ২০০০ সালের ২৮ জুন কোম্পানির আইন ১৯৯৪ এর অধীনে নিবন্ধিত হয়। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মোট ৯টি ইউনিট কাজ করে। ৬টি স্টীম টার্বাইন, ২টি গ্যাস টার্বাইন, ১টি গ্যাস ইঞ্জিন। এর স্থাপিত ক্ষমতা ছিল ৭৭৭ মেগাওয়াট ও পুনঃনির্ধারিত ক্ষমতা ৭৩১ মেগাওয়াট।

আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এই পর্যন্ত অসংখ্য পুরষ্কার ও স্বীকৃতি লাভ করেন। নিচে তার সংক্ষিপ্ত তালিকাঃ

  • Green Era Award-2015
  • ISO 9001:2008 Certified
  • ICMAB Award-2014
  • Best Power Unit Award-2011
  • Trade Finance Award Deals of the Year-2012
  • Financing Facility Availed for 225MW CCPP
  • Financing Facility Availed for 450MW CCPP(South)

আশুগঞ্জ সার কারখানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় ১৯৮১ সালে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার এন্ড কেমিক্যাল কোম্পানি স্থাপিত হয়। এটি পূর্বে জিয়া ফার্টিলাইজার নামে পরিচিত ছিল বর্তমানে এর নাম পরিবর্তন করে আশুগঞ্জ সার কারখানা রাখা হয়েছে। এই ফ্যাক্টরির বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৫,২৮,০০০ মেট্রিক টন। আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার ন্যাশনাল পোড্রাক্টিভিটি এন্ড কোয়ালিটি এক্সিলেন্স এওয়ার্ড-২০১৫ অর্জন করে। আশুগঞ্জ সার কারখানা দেশের ইউরিয়া সারের অন্যতম বৃহত্তম সার কারখানা।

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি

এটি বাংলাদেশের প্রধান গ্যাস উৎপাদনকারী কোম্পানি। দেশের মোট গ্যাস চাহিদার ৬০ ভাগই এই কোম্পানি পূরণ করে থাকে। এই কোম্পানি ১৯৫৬ সালের ২৬ মে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। স্বাধীনতার পর নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ শেল অয়েল কোম্পানি এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি রাখা হয়। বর্তমানে এই কোম্পানি ৭টি গ্যাসক্ষেত্র ও ৫২ টি ওয়েল ক্ষেত্র পরিচালনা করছে। যার মাঝে তিতাস, বাখরাবাদ, হবিগঞ্জ, নরসিংদী ও মেঘনা গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে এবং ৪৩টি ওয়েল ক্ষেত্র থেকে উৎপাদন চলছে। আর বাকি দুটি গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন পরিত্যক্ত করা হয়েছে। অর্থনৈতিক বাংলাদেশ গঠনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি গুরুত্বপূর্ন অবদান রেখে আসছে।

বিসিক শিল্প নগরী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর থেকে ৫ কি.মি দূরে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পাশে নন্দনপুর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত করা হয়। ১৯৯৮ সালে ২১.৯৮ একর জমিতে ১৩৭টি প্লট নিয়ে বিসিক শিল্প নগরীর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

এছাড়াও এই অঞ্চল নৌযান নির্মান শিল্প, পাদুকা শিল্প, তাঁতের শিল্প, কুটির শিল্প ইত্যাদির জন্য বিখ্যাত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here