বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দর্শনীয় স্থান সমূহ

731
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দর্শনীয় স্থান সমূহ

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একটি প্রশাসনিক উপজেলা। জনশ্রুতি আছে যে, ঢাকার তৎকালীন জমিদার রূপলাল বাবুর একজন বিশ্বস্ত রায়ত বাঞ্ছারাম দাস বর্তমান উপজেলা সদরে বাস করতেন। তার আচার-ব্যবহার এবং কাজকর্মের বিশ্বস্ততা ও আনুগত্যের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তার নামে এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয় বাঞ্ছারামপুর। আর বাঞ্ছারামপুর শব্দের শাব্দিক অর্থ অভিলাষ দূর্গ।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আয়তন ১৮৭.৩১ বর্গ কিলোমিটার। এ উপজেলার পূর্বে নবীনগর উপজেলা ও কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলা; দক্ষিণে তিতাস নদী ও কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলা; পশ্চিমে মেঘনা নদী, নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলা ও নরসিংদী জেলার নরসিংদী সদর উপজেলা এবং উত্তরে নরসিংদী জেলার নরসিংদী সদর উপজেলা অবস্থিত। মোট ১৩টি ইউিনয়ন নিয়ে গঠিত বাঞ্ছারামপুর উপজলা।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দর্শনীয় স্থান সমূহ

রূপসদী জমিদার বাড়ি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী গ্রামে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক রূপসদী জমিদার বাড়ি। প্রায় শতবছর পুরাতন এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করার জন্য ১৯১৫ সালে ভারত থেকে নকসা ও রাজমিস্ত্রী এনে তীর্থবাসী চন্দ্র রায় নামে এক জমিদার প্রায় ৫ একর জমির উপর এই বাড়িটি নির্মাণ করেন। এই বাড়িটি ঘিরে তিনটি বড় বড় পুকুর ছিল, যেখানে অনেক বড় বড় মাছ পাওয়া যেত। এছাড়াও এই বাড়িটি ঘিরে বৈশাখী মেলাও বসতো এই জমিদার বাড়িতে। তীর্থবাসী চন্দ্র রায়ের ছেলে জমিদার মহিষ চন্দ্র রায় তার দাদার নামে এখানে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করেন। সাথে তার বাবার স্মৃতি রক্ষায় নির্মাণ করেন একটি মঠ। তবে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকে জমিদার বংশধররা এখানে আর বসবাস করেন না। এই বাড়িটি দেখার জন্য দূরদূরান্ত থেকে অনেক মানুষ আসে। এই শতবছর পুরনো রূপসদী জমিদার বাড়ীটি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাঞ্ছারামপুরে।

উজানচর জমিদার বাড়ি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১২নং উজানচর ইউনিয়নে শত বছরের পুরাতন আরেকটি জমিদার বাড়ি রয়েছে। এই জমিদার বাড়িটি এখনও স্বগর্বে দাঁড়িয়ে আছে শত বছর ধরে তবে, সংস্কারের অভাবে এই ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি এখন ধ্বংসপ্রায় অবস্থায়। বাঞ্ছারামপুর উপজেলা থেকে সিএজি যোগে উজানচর গিয়ে একটু পায়ে হেটে উজানচর জমিদার বাড়িতে যাওয়া যায়। অনেকেই এই শতবছরের পুরাতন বাড়িটি দেখতে আসে।

Y সেতু বা শেখ হাসিনা তিতাস সেতু

বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহৎ Y আকৃতির ওয়াই সেতুটি রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ও কুমিল্লার হোমনা উপজেলার তিতাস নদীর ত্রিমোহনায়। Y আকৃতির কারনে একে Y সেতু অনেকেই বলে, আবার অনেকে শেখ হাসিনা তিতাস সেতু বলে। ২০১১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এলজিইডি ও নাভানা বিল্ডার্সের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছিল এই সেতুর নির্মাণ প্রকল্প। এই Y ব্রিজটি বিশ্বের দ্বিতীয় ওয়াই ব্রিজ এবং এশিয়ার সবর্বৃহৎ ওয়াই ব্রিজ, একইসাথে বাংলাদেশের প্রথম ওয়াই ব্রিজ।

শেখ হাসিনা তিতাস সেতুটির দৈর্ঘ্য ৭৭১ দশমিক ২০ মিটার এবং প্রস্থ ৮ দশমিক ১০ মিটার। এই সেতুটিতে ৩০২টি পাইল, ২৫টি পিলার ও ২৪টি স্প্যান রয়েছে। এই সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৯৯ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা। প্রায় ৬ বছর সময় পর অর্থাৎ ২০১৭ সালের জুন মাসে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয় এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। দৃষ্টিনন্দন Y আকৃতির এই ব্রিজটি দেখতে প্রতিদিন অগণিত পর্যটক ভিড় করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ও হোমনা উপজেলার এই ত্রিমোহনায়।

বাঞ্ছারামপুর তাঁত শিল্প কারখানা

তাঁত পল্লী খ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা। এই উপজেলা ঘিরে একসময় অগণিত ঐতিহ্যবাহী হস্তচালিত তাঁত কারখানা ছিল, যদিও সময়ের সাথে সাথে সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার অভাবে দিনদিন এই শিল্প বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা থেকে। একসময় এই উপজেলায় কয়েক হাজার তাঁত কারখানা ছিল কিন্তু এখন সবমিলিয়ে মাত্র ৩-৪শ’ তাঁত কারখানা চালু রয়েছে। বাঞ্ছারামপুরের ঐতিহ্যবাহী এই তাঁত শিল্প পর্যটকদের কাছে আগ্রহের স্থান হতে পারে।

এছাড়াও বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দর্শনীয় স্থানের মাঝে ব্যাপক পরিচিত রয়েছে-

  • বাঞ্ছারামপুর কৃষি ইনস্টিটিউট
  • হযরত শাহ্ রাহাত আলী শাহ (র:)
  • শাহ রাহাত আলী মাজার
  • কান্দু শাহ এর মাজার
  • খোশকান্দি জামে মসজিদ
  • বাঞ্ছারামপুর সদর জামে মসজিদ
  • ধারিয়ারচর জামে মসজিদ
  • স্বপ্নদ্বীপ (মেঘনা নদীর মধ্যাংশ বালুর চর)
  • উজান চর কালীমন্দির
  • রূপসদী দক্ষিণবাজার কালীমন্দির